Welcome to Varendra govt. college Rajshahi

কলেজ পরিচিতি

বরেন্দ্র সরকারি কলেজ, রাজশাহী-এর ইতিহাস শিক্ষানগরী হিসেবে খ্যাত রাজশাহী মহানগরী নানামুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৯ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক দেশের বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টঝ অওউএর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশের ষোলটি জেলা সদরে ষোলটি গভ: কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিদেশি মিশন ও বিভিন্ন কোম্পানির জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। সময়ের প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োজনীয়তাও ছিল অপরিহার্য। এরই সূত্র ধরে তখন রাজশাহী গভ: কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয় রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র মালোপাড়ার এক ভাড়াবাড়িতে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি পৃথক প্রোগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৪ সালে জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে এই প্রতিষ্ঠানসমূহকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সহযোগী অধ্যাপক পদের একজন অধ্যক্ষ, তিনজন সহকারী অধ্যাপক ও চারজন প্রভাষক পদ নিয়ে এর নতুন যাত্রা শুরু হয়। পদসমূহ বিষয়ভিত্তিক না হওয়ায় যেকোন বিষয় থেকে এখানে শিক্ষক পদায়ন করা হত। ১৯৮৪ সালের শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ অনুসারে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের পদায়নের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের জন্য দুর্বোধ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে এখান থেকে কোন তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি অবসরে গেলে তার সেই পদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। নতুন করে পদায়ন না হওয়ার কারণে এ ধরনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে রাজস্বখাতে তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির কোন কর্মচারি নেই। দুই বছর মেয়াদী যে শিক্ষা কার্যক্রম এখানে চালু করা হয়েছিল তাকে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ নামে অভিহিত করা হত। এই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য পাঠ্যক্রমের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজিতে টাইপ রাইটিং, সাঁটলিপি (শর্ট হ্যা- রাইটিং), সাচিবিক বিদ্যা ইত্যাদি বিষয়সমূহ চালু ছিল। সময়ের আবর্তে এই কারিকুলামের কিছু পরিবর্তনও পরবর্তীতে করা হয়। ১৯৮১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন দ্বারা রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়া, পাবনা, রংপুর ও সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাথে সংযুক্ত ব্যবসায় শিক্ষা শাখাকে স্বতন্ত্র কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত রাজশাহী গভ: কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সফলতার সাথে ডিআইবিএস কোর্স পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য তা ক্রমশই গুরত্ব হারাতে থাকে। এক পর্যায়ে শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকার এই স্বতন্ত্র কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোকে ১২ মে ২০১৬ ইং তারিখে এক প্রজ্ঞাপন দ্বারা সাধারণ কলেজে রূপান্তর করে বিজ্ঞান মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা খোলার অনুমোদন দিয়ে স্ব স্ব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ন্যস্ত করে। সরকারের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র সরকারি কলেজ, রাজশাহী নাম ধারণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর অধীনে তিন শাখায় ২২টি বিষয় অনুমোদন চায় এবং যথারীতি বোর্ড ২২টি বিষয় অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তারই সূত্র ধরে এ কলেজ ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষে ০৩ টি শাখায় ভর্তি কার্যক্রম হাতে নিয়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে যা অদ্যাবধি চলমান রয়েছে। ল্যাবরেটরি তথ্য-প্রযুক্তি ও গ্লোবালাইজেশনের যুগে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানের কলাকৌশলগুলোকে হাতে কলমে শিখিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার উপযোগী বিজ্ঞান গবেষণাগার রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগে আধুনিক ও প্রয়োজনীয় উপকরণে সুসজ্জিত, অত্যন্ত সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরিতে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়মিত ব্যবহারিক পাঠদান করা হয়। ব্যবহারিক পাঠদানকে অধিকতর ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ল্যাবসমূহে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করা হয়। আইসিটি ল্যাবরেটরিতে ৫০ টি কম্পিউটারের মাধ্যমে হাতে কলমে শিক্ষাদান করা হয়। সাইকেল গ্যারেজ কলেজের প্রধান ফটকের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে একটি সুরক্ষিত সাইকেল গ্যারেজ রয়েছে। এখানে এক সাথে প্রায় ১০০টি সাইকেল রেখে ছাত্ররা নিরাপদে ক্লাসে যেতে পারে। ক্রীড়া ও শরীরচর্চা বিভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি নানাবিধ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যে কলেজে কয়েকজন শিক্ষকের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় ক্রীড়া ও শরীরচর্চা বিভাগ। ছাত্রীদের কমনরুম মূলভবনের নিচ তলায় দক্ষিণ প্রান্তে কলেজের অফিস কক্ষের পাশে রয়েছে ছাত্রীদের কমনরুম। ক্লাসের অবসরে ছাত্রীরা সেখানে বিভিন্ন প্রকার ইনডোর গেম্সে অংশগ্রহণ করে থাকে। শহিদমিনার বরেন্দ্র সরকারি কলেজের প্রবেশ্লারের পূর্ব পাশে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ প্রান্তে শহিদমিনারের অবস্থান। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কলেজ এবং কলেজের আশে-পাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকে।